অনলাইনে অপমান, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভুয়া কনটেন্ট দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ বিভিন্ন আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে সাইবার বুলিং আত্মহত্যার ঝুঁকির একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, পারিবারিক দোষারোপও ভুক্তভোগীর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

২০২০ সালের নভেম্বরে সাতক্ষীরা সদরের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার অভিযোগ করে, অজ্ঞাত কেউ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট ছড়িয়েছিল।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

২০২১ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর সবুজবাগে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার দুই যুবকের বিরুদ্ধে ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ছড়ানো ও অর্থ দাবি করার অভিযোগ করে।

ওই ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধিতে মামলা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালে কয়েকজন শিক্ষার্থী, একজন আইনজীবী ও এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের স্বজনেরা সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তুললেও, মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট বা অন্য সামাজিক কারণ ছিল কি না তা অনিষ্পন্ন।

২০২৫ সালের মার্চে পটুয়াখালীর বাউফলে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার দীর্ঘদিনের উত্যক্ত ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশের অভিযোগ করে।

একই মাসে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর পরিবার দাবি করে, একটি ফেসবুক পেজে শ্রেণিকক্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

সিআইডির হিসাবে সাইবার অপরাধের ভুক্তভোগীদের ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ সাইবার বুলিং ও হয়রানির শিকার।

সিআইডির ওই হিসাব অনুযায়ী, বুলিং ও ব্ল্যাকমেলের শিকারদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী ও কিশোরী; আক্রান্তদের বড় অংশের বয়স ১৪ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, অনলাইন হয়রানির অনেক ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে এগিয়ে আসেন না, ফলে অভিযুক্তরা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরে ৫০০ থেকে ৭০০ নারী হত্যা বা আত্মহত্যার শিকার হয়েছেন; সংস্থাটি এ ক্ষেত্রে পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক, যৌন হয়রানি, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সামাজিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেছে।