পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত ১১৬ মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে ৪১ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন, যা মোটের ৩৫ শতাংশের বেশি।

ওই হিসাবে, জুলাই আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্বে থাকা ৭৭ এসপির মধ্যে ৩৫ জন এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল এবং ৪২ জন (৫৪ শতাংশ) বরখাস্ত বা সংযুক্ত রাখাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ৫৭ জনকে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে; বিদেশে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।

গত দুই বছরে আট মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কমিশনার ও আট রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা ২১ অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন; সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১ এসপির মধ্যে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ও আবুল হাসনাত খান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, এখনো দায়িত্বে থাকা ৪১ কর্মকর্তা পুলিশের জন্য 'বিষফোড়া' হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা ভেতরের তথ্য বাইরে পাচার করছেন ও অভ্যন্তরীণ অনৈক্য তৈরি করছেন বলে মনে করছেন।

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতনের পর অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আত্মগোপনে চলে যান বা বিদেশে পাড়ি জমান; তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।