ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশে রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য রয়েছে; কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো অন্তত ৪৫ জন আহতের কথা বলেছেন, আর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন ৪৪ জন আহত হয়েছেন।
ক্লিচকো বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
জেলেনস্কি বলেন, হামলায় গুদামঘর, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও একটি রেলস্টেশন লক্ষ্যবস্তু ছিল।
হামলায় বিভিন্ন ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ও গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য, হামলায় ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি সিরকন ও অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়; এর অনেকগুলো ছিল জেটচালিত।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের জন্য আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।
তিনি জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বানও জানান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও চালকবিহীন আকাশযান-সম্পর্কিত রসদ কেন্দ্র।
মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, ওডেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে দাবি করেছে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগরের আকাশে ইউক্রেনের ৪৭৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার বলেন, চার জেলায় ৪০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং নেকলিনোভস্কি জেলায় ধ্বংসাবশেষ থেকে শুকনো ঘাসে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তুলা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একটি সর্টিং সেন্টারে আগুন লাগে, দুটি আবাসিক ভবন ও দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন আহত হন।
তাতারস্তানের জেলেনোদলস্ক জেলায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একটি বেসামরিক স্থাপনায় ছোট আগুন লাগলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই বলে জেলা প্রধান মিখাইল আফানাসিয়েভ জানান।
যুদ্ধরত দুই পক্ষের সামরিক দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।