চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভোরের পর গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নামায় বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে; দুপুরের খাবার তৈরি করতে অনেকে বিকেল বা গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

কেজিডিসিএল বলেছে, চট্টগ্রামের দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট; সংকট শুরুর সময় সরবরাহ ছিল প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আগস্টের শুরু থেকে তা আরও কমে গেছে।

মইজ্জার টেকের অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফরহাদ আলম বলেছেন, আগে ১০ থেকে ২০ মিনিটে গ্যাস পাওয়া গেলেও এখন চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মিলছে না।

কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাসহ (সিইউএফএল) বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস স্বল্পতায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে; রপ্তানিমুখী, ইস্পাত, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ কমায় উৎপাদন কমেছে এবং চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।

সিসিসিআই সভাপতি আমিরুল হক বলেছেন, অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সাময়িক বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; এর প্রভাব স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট থেকে অর্ধেকে নেমে আসে এবং চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দের একটি বড় অংশ ঢাকার চাহিদা পূরণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না এবং সীমিত সরবরাহ রেশনিং করে বিতরণ করা হচ্ছে; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামত করে চালু করতে অপারেটর ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে।