চৌর্যবৃত্তি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মুখে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে পদত্যাগ করেছেন; বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আরডের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে; গবেষণায় অসদাচরণের অভিযোগও নীতিমালা অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নিজেকে ‘রেস রিয়েলিস্ট’ বা জাতিগত বাস্তববাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নাথান কফনাস দাবি করেছেন, আরডের গবেষণাকর্মে তিনি অসংখ্য চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়েছেন এবং তার কিছু একাডেমিক অর্জনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আরডে স্বীকার করেছেন, তার গবেষণাকর্মে কিছু ভুল ছিল; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কোনো মিথ্যাবাদী নন এবং শুরুর দিকের কিছু ভুল অটিজমের কারণে হয়েছে।

আরডে বলেন, কেমব্রিজে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় পেশাগত গৌরব ছিল; তবে নিয়োগের পর থেকে তিনি কঠোর সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েছেন এবং তাঁর দাবি, তাঁকে অপসারণের জন্য পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার পেছনে বর্ণবাদী মনোভাবও কাজ করেছে।

গুড ল প্রজেক্টের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরডে বলেন, একপর্যায়ে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও মানসিক চাপ সামলানোর সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং নিজের সুস্থতা ও পরিবারের কথা ভেবেই তিনি এই অধ্যায় শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তার পদত্যাগকে গবেষণা বা কেমব্রিজের মূল্যবোধের প্রতি আস্থাহীনতা হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি তার কাজের সমাপ্তি নয়, সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি আবার ফিরবেন।

এ ছাড়া আরডের দাতব্য দৌড়ের দাবিগুলোও প্রশ্নের মুখে পড়েছে; তিনি আগে ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন, তিন দিনে ৩০০ মাইল ও ট্রেডমিলে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর এবং ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি তোলার কথা বলেছিলেন, পরে জানান অর্থটি ২০ বছরের বেশি সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ট্রেডমিলের দৌড় ১২ দিনে সম্পন্ন হয়েছিল।