জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজের অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রথমে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়; পরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে—এক হিসাবে ২০ জন এবং অন্য হিসাবে উভয় পক্ষ মিলিয়ে ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের নারায়ণগঞ্জের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তোলারাম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন, আর মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি অমিত হাসান ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তাদের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।

তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠান শেষে কলেজ গেটের বাইরে আহত হওয়ার খবর পেয়ে প্রশাসনকে জানানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি ঘিরে দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

বরিশালে আহতদের মধ্যে ১০ জনকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বরিশালে ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে শিবিরের হামলার অভিযোগ করেছে; শিবির বলেছে, তাদের মিছিলে ছাত্রদল হামলা চালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ সংঘর্ষকে দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে শিক্ষক ও প্রশাসনের সদস্যরাও আহত হয়েছেন।

বরিশাল মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বেলাল হোসাইন বলেন, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে ঘিরে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, সেখানে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটি হলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।