জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করে, যেখানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ।
তিনি সরকারের 'থ্রি আর' কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—তুলে ধরে বলেন, এর লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুসংহত করা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে দিবসটি উপলক্ষে 'ক্যানভাসে জুলাই' শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান ও দোয়ার কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আখতার হোসেন; আলোচনায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে দিবস উপলক্ষে দিনভর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়; ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল তরুণ প্রজন্মকে বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকার আহ্বান জানান।