সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেন, ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু কিয়েভ ক্ষমা চাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে।
রেজায়ি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বড় ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ওয়াশিংটনের সামরিক লক্ষ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে।
২৫ জুলাই ইরান অভিযোগ করে, ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে একজন নাবিককে হত্যা করেছে; পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কিয়েভের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটি তেহরানের জন্য শেষ সুযোগ; ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নেই বা কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
রেজায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত নৌপথের বাইরে কোনো সামুদ্রিক করিডোর চালু হতে দেওয়া হবে না; বাঘেই জানান, বর্তমানে একমাত্র ওমানের সঙ্গেই হরমুজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা সই হয়; গত মাসে তা ভেঙে গেলে দুই দেশ প্রায় দুই সপ্তাহ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।
রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে, একদিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিস্তারিত হিসাবে রাশিয়ায় ১৫ ও ইউক্রেনে ১১ জন—মোট ২৬ জনের প্রাণহানির তথ্য রয়েছে।