বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি আবাসিক হলকে ঘিরে জুলাইয়ের শেষ ভাগ থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত একাধিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।

২৩ ও ২৪ জুলাই শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়; দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এর সূত্রপাত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই দুই দিনের ঘটনায় ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানানো হয়েছে।

পরে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক আমিনুল মতিন বলেন, ওই ঘটনায় আহত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হলে ফিরে গেছেন।

ফসিলের মোড়ে চা খেতে যাওয়া আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর শহীদ শামসুল হক হলের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী হামলা করেন বলে আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন।

শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থী রুপায়ন ভূঁইয়া বলেন, কটূক্তিকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল এবং পরে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের গেটে হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের বর্ণনায়, পরবর্তী সময়ে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পাল্টাপাল্টি তৎপরতা, বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর এবং হলের গেটের লোগো ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটে।

কয়েকটি বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন; এগুলো বিস্ফোরকের শব্দ হতে পারে বলে দাবি উঠলেও প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কথা উল্লেখ নেই।

শহীদ শামসুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

আশরাফুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের কাজ চলছে।

উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।