ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন ডিবি ওসিসহ ১১ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রতিবেদনসহ সুপারিশপত্র পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সুপারিশের আওতায় থাকা তৎকালীন ডিবি ওসির নাম মো. আলমগীর হোসেন।
২০ জুন মধুখালী পৌর এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে ডিবি সদস্যরা আটক করেন।
তিনি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং একটি চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক ছিলেন।
আটকের পরদিন ডিবির এসআই আহাদুজ্জামান ইশতিয়াককে আসামি করে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
ওই মামলার এজাহারে রাত দুইটায় প্যান্টের পকেট থেকে গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হয়।
ভিডিওচিত্রে ঘটনাটি দিনের বেলায় এবং ইশতিয়াককে লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখা যায় বলে বর্ণিত হয়েছে।
ভিডিওচিত্রে ডিবি সদস্যদের তাঁর মাথায় আঘাত করতে এবং তল্লাশি চালাতে দেখা যায় বলে বর্ণিত হয়েছে।
মাদক মামলার দুই সাক্ষীর দাবি, তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ভয় দেখিয়ে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।
ইশতিয়াকের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর মুক্তির বিনিময়ে ডিবি সদস্যরা এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের ভূমিকা বিভাগীয় তদন্তে নির্ধারণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।