সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান হাইকোর্টের জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২ আগস্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই করে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পিবিআই এপ্রিল মাসে কেরানীগঞ্জে তাঁর বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে; তবে গ্রেপ্তারের তারিখ নিয়ে ২১ ও ২২ এপ্রিলের ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর পিবিআই সাত দিনের রিমান্ড চাইলেও কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই বলেছে, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া আলামতের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আরও দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতি আদালত দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পিবিআই জানিয়েছে, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন এবং পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন; ২০২০ সালে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে যায়।