কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় সমুদ্রে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি খুলনার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে এবং বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় নিয়ে ভিন্ন তথ্য রয়েছে: এক হিসাবে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে, অন্য হিসাবে দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ঘটে।
তাঁর বয়সও দুই বিবরণে ৩০ ও ৩১ বছর বলা হয়েছে।
সমুদ্র থেকে উদ্ধারের পর তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি জীবিত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও দুই বিবরণে অমিল রয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা দিলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে না বলে জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, বৈরী পরিবেশে প্যারাসেইলিং পরিচালনা এবং পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন আগে সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্যারাসেইলিং পরিচালনার জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ২৭ জন লাইফগার্ড কাজ করেন, কিন্তু দরিয়ানগর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অংশে লাইফগার্ড বা ডুবুরি নেই।
নিহতের এক সফরসঙ্গী অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার সময় দ্রুত উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা বা দরিয়ানগরে লাইফগার্ড দেখা যায়নি।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম প্যারাসেইলিং পরিচালনায় নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির অভিযোগ করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান।
দরিয়ানগরে ২০২৫ সালে প্যারাসেইলিংয়ের সময় একজন পর্যটক সমুদ্রে পড়ে আহত হন এবং আরেক নারী পর্যটক ঝাউবাগানে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের তথ্য।