৪ আগস্ট রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুরের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরে ঢাকা কলেজ ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় উত্তেজনা ছড়ায়।

এর আগের দিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও দুই সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মকবুল হোসেন বলেন, বেলা একটার পর থেকে আহতরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন এবং বিকেল চারটা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন চিকিৎসা নেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ জন তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং গুরুতর আহত চার থেকে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রইছ উদ্দীন ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান মোস্তফা হাসানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দাবি করেন, একটি অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অপমানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল; সরে যাওয়ার অনুরোধের পর সংঘর্ষ বাধে।

জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, আবাসন প্রকল্পের দরপত্রসংক্রান্ত ক্ষোভ থেকে তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে।

সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় শিবির শাখার সভাপতি আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে তাঁদের মারধর ও কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ করেন।

ছাত্রদলের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী বলেন, একটি কক্ষ তালাবদ্ধ করাকে কেন্দ্র করেই সেখানে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট এক বিবৃতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ ও আতঙ্ক সৃষ্টির নিন্দা জানিয়েছে।

জোটটি দাবি করেছে, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করছে এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে অনিরাপত্তা তৈরি করছে।

বিবৃতিতে সহিংসতা বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।