জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষে সিলেট শহরে ফেরার পথে শুক্রবার রাতে তার গাড়িতে হামলা হয়েছে।
রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, হামলায় তার গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে এবং তার হাতে আঘাত লেগে রক্তপাত হয়েছে।
ওই পোস্টে তিনি আরও জানান, তার সঙ্গে থাকা আরও একজনের হাতও কেটে রক্তপাত হয়েছে।
একই রাতে আরেকটি পোস্টে পাটওয়ারী জানান, জৈন্তাপুরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’য় হাজারো মানুষের উপস্থিতি ছিল এবং তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পথসভা মুখর ছিল।
সিলেট ও হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, সিলেটে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে দলটির নেতা সারজিস আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে ছাত্রদল। মামলায় নাসীরুদ্দীন ও সারজিসসহ মোট ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে তাদের নেতাকর্মীদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দলটির নেতারা এসব ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করে বলেছেন, হামলার মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাগুলো নিয়ে অভিযোগ ও মামলার বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে।
ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সিলেট ও হবিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মামলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষণ: একই ঘটনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলা বা দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।