মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষা প্রশাসন ডিজিটাল করা, শিক্ষক বদলি সহজ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া ও প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, প্রশাসনিক কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাইজেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরটি পরিচালক ও উপপরিচালক পর্যায়ে প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা জানিয়েছে।

পত্র গ্রহণ শাখা আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি বা ইএমআইএসের নিরাপত্তা পরীক্ষা, সিকিউরিটি অডিট ও ক্লাউড মাইগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মাউশি জানিয়েছে।

মাউশির ভাষ্য, উন্নীত ইএমআইএস এমপিও, সরকারি শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ, শূন্যপদের তালিকা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য তৈরিতে সহায়তা করবে।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সফটওয়্যারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রবেশ পর্যায়ের অন্য এমপিও পদে নিয়োগ-সুপারিশের জন্য পৃথক সফটওয়্যার তৈরির কথা বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরটি জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ শুরুর কথাও জানিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মামলার সংখ্যা উল্লেখ করেনি।

মাউশি বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে অধিদপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিতে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; লেইস প্রকল্পে ২৯ হাজার প্রতিষ্ঠানে ৮৮ হাজার গাছ রোপণের কথাও মাউশি জানিয়েছে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, স্কাউটিং সম্প্রসারণ, কলেজশিক্ষক উন্নয়ন, শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউট এবং সমন্বিত শিক্ষার্থীকল্যাণসহ ছয়টি নতুন স্কিমের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

মাউশির পরিচালক মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, ২১টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের পাশাপাশি ১৮টি ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, স্কুল ড্রেস এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।

কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, আত্মহত্যাপ্রবণতা প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে কর্মসূচির উদ্যোগের কথাও মাউশি জানিয়েছে।