সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ৪ আগস্ট বসার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে বৈঠকটি হওয়ার কথা এবং সদস্যদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকে কমিটির কার্যপদ্ধতি, কর্মকৌশল ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় থাকার কথা।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব এবং সম্ভাব্য সংশোধনী রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার পর কমিটি সংসদে প্রতিবেদন দেবে।

তিনি বলেছেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংসদে বিল আনবে; এরপর বিল নিয়ে আলোচনা ও ভোট হবে।

১৩ জুলাই বিশেষ কমিটি গঠিত হয় এবং ওই দিন বিরোধী দল কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যে কমিটির কাঠামো ১৭ সদস্যের; বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আসন শূন্য থাকায় আপাতত ১২ সদস্য নিয়ে এটি গঠিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেছেন, কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে, যদিও তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।

জুলাই জাতীয় সনদে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এর মধ্যে উচ্চকক্ষ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিষয়ও আছে।

বিএনপি বলেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে দলটি বলেছে, সনদে তাদের ভিন্নমত অন্তর্ভুক্ত রেখে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে।

কমিটি সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে, নাকি সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করবে—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।