দক্ষিণখানে দন্তচিকিৎসক সারা রোকসানা হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী মো. সোহেল রানাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

৩০ জুলাই ফায়দাবাদের জামতলা গলির একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ৪২ বছর বয়সী সারা রোকসানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন নিহতের বোন মামলা করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার বর্ণনায় বলা হয়, সেদিন স্কুল থেকে ফিরে নিহতের ১০ বছর বয়সী মেয়ে শোবার ঘরে মাকে বিছানায় মুখের ওপর বালিশচাপা অবস্থায় দেখতে পায়।

ঘরের একটি জানালার গ্রিল কাটা ছিল এবং আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রিল কাটা থাকলেও আশপাশের কেউ শব্দ শোনেননি এবং ভেতরের বারান্দার জুতার ছাপের সঙ্গে সোহেল রানার জুতার মিল পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, সোহেল রানা ওই জুতা নিজের বলে স্বীকার করেছেন, তবে বাইরের ছাদ বা বিপরীত পাশে অন্য কোনো জুতার ছাপ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের আবেদনে আলমারির অবস্থা ও পুরোনো খালি গয়নার বাক্স গুছিয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে চুরি বা ডাকাতির ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

আবেদনে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রীর একটি সম্পর্ক নিয়ে সোহেল রানার সন্দেহের কথাও উল্লেখ করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোহেল রানা দীর্ঘদিন স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগে সারা রোকসানা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা বোনকে জানিয়েছিলেন।

সোহেল রানা আদালত থেকে বের হওয়ার সময় হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি সঠিক তদন্ত ও বিচার চান।

ময়নাতদন্তের ফল, তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির তথ্য জানা যায়নি।