আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে প্রসিকিউশন একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।
উপস্থাপিত রেকর্ডে কাদেরকে ‘এদের মারো না কেন’ বলতে এবং সাদ্দামকে ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে’ বলতে শোনা যায়।
একই সংলাপে কাদের ‘এদের পেটাও না কেন, বাড়তে দাও না কেন’ বলেছিলেন বলেও উল্লেখ আছে; ইনান জানান, পুলিশ ও ‘বিপ্লব দা’ তাদের শাহবাগের দিকে যেতে নিষেধ করেছেন, জবাবে কাদের বলেন ‘বিপ্লব তো এটা বলার কথা না’।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতে বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বরং পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’; দমন বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তামিম আরও বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলার পর কাদের ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হামলা চালায় এবং এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান।
মামলায় কাদেরসহ সাত আসামিই পলাতক; ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় এবং ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
এর আগে ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়; ৪ আগস্ট প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক শুরু করে।