জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তালিকা ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মূল্যায়নের মধ্যে অন্তত ৫৫৭ জনের ব্যবধান রয়ে গেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ‘জুলাই শহীদ’ তালিকায় ৮৪৩ জন নিহতের নাম রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ ও বিক্ষোভ-পরবর্তী সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে মূল্যায়ন করেছে।

ওএইচসিএইচআর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের তদন্তের ফল প্রকাশ করে।

কার্যালয়টি বলেছে, তাদের মূল্যায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৮৪১ জনের তালিকা এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের ৩১৪ জনের তালিকাসহ একাধিক তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হয়েছে।

ওএইচসিএইচআর বলেছে, একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় থাকলে তা একবার গণনা করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা হাসপাতাল ও মর্গের তথ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে কার্যালয়টি জানিয়েছে।

তবে ওএইচসিএইচআর নিহতদের নামভিত্তিক কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটি ও জাতীয় নাগরিক কমিটি আগে প্রায় ১,৫৮১ জন নিহতের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

উপ-কমিটির তৎকালীন সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম বলেছেন, ওই তালিকাটি অল্প সময়ে তৈরি খসড়া ছিল এবং তখন সবার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, নির্ভুল তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং এ কাজের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে।

ওএইচসিএইচআরের তদন্তে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল ও শটগানের গুলিতে মারা যেতে পারেন।

ওএইচসিএইচআরের তদন্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে নেতৃত্ব এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করা হয়েছে।

কার্যালয়টির হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু ছিল এবং ১১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে নির্বিচারে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।