ইরানি এক কর্মকর্তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে তেহরান।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে থাকবে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও তেলক্ষেত্রের কথাও বলা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচ ব্যক্তির ভাষ্য, ২৮ জুলাই ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

তাঁদের ভাষ্য, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

আরাঘচি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নতুন হামলা ঠেকাতে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানান বলেও তাঁদের দাবি।

এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের ভাষ্য, আরাঘচি প্রতিশোধের প্রস্তুতির কথা বললেও বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন।

ট্রাম্প ২ আগস্ট বলেন, দ্রুত সমঝোতা সম্ভব হলে তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে রাজি।

২০১৯ সালে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইসের আরামকো স্থাপনায় হামলার পর দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল।

ইরানি এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, নতুন হামলা হলে পুরো অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।