মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে ১ আগস্ট স্প্যানিশ কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৭ বলে জানালেও অন্য বিবরণগুলোতে ৫৭ জনের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা ও সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরা বলেন, কেউ সাগরে ডুবে এবং কেউ তারাজাল সৈকতসংলগ্ন সীমান্ত বেড়া বা বাঁধ পার হওয়ার সময় ভিড়ের চাপে মারা যান।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৩০ জুলাই সকাল থেকে ৩১ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩০০ জন সীমান্ত পেরিয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে একই সংখ্যক মানুষ মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
সেউতার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের হিসাবে, কয়েক দিনে সীমান্ত পারাপারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ৩১ জুলাই সেউতা পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাটিকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন।
সানচেজ বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেউতার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাসদস্য, নৌযান, ডুবুরি ও ড্রোন মোতায়েনের কথা জানিয়েছে।
মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে জলকামান ব্যবহার করে ভিড় সরানোর চেষ্টা করেছে; সীমান্ত এলাকায় যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার ঠেকানো এবং মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।
সেউতা মরক্কো সীমান্তসংলগ্ন স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর এবং ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে এই পথ দিয়ে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা আগে থেকেও হয়ে আসছে।
সানচেজের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভুল বা স্বার্থান্বেষী ব্যাখ্যা ছড়িয়ে মানুষকে সেউতায় যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে।