সৌদি আরব ১৩টি দেশকে নিয়ে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে; সদস্য তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান নেই।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের মূল লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
একই বিবৃতিতে জোটটিকে সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক দাবি করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে এটি কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আর হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার—২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন—তাই সৌদির কৌশলগত অনুরোধে সাড়া না দিলে ভিসা, কোটা বা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও মনে করেন, জোটে অংশ নিলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক কৌশল, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়ার অভিজ্ঞতা পাবে এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে রপ্তানি বাজার ও জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জে ইউ ভুঁইয়া সতর্ক করেছেন, ইরান এই যুদ্ধে টিকে গেলে ভবিষ্যতে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে এবং বাংলাদেশের মতো যে-কোনো পদক্ষেপ সে মনে রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জোটে যোগ দিলে ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হবে; বিরত থাকলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন হতে পারে, যা বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।