স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৬ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫৬ জন মারা গেছেন; আক্রান্তদের ৬১.৪ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮.৬ শতাংশ নারী, আর মৃতদের ৬২.৫ শতাংশ নারী।
অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি: ১৬-৩০ বছর বয়সীদের ১৫ জনের মৃত্যু (মোটের প্রায় ২৬.৮ শতাংশ) এবং ১৬-৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষমদের ৪৩ জনের মৃত্যু (প্রায় ৭৬.৮ শতাংশ) হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ২৬-৩০ বছর বয়সীরা (২,১৯৫ জন); এর পরের অবস্থানে ২১-২৫ বছর (২,১৬৭ জন) ও ১৬-২০ বছর (২,১৩৫ জন), আর ১৬-৩০ বছর বয়সীরা মোট আক্রান্তের প্রায় ৪০ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩ আগস্টের হালনাগাদ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; ফলে চলতি বছরের মোট আক্রান্ত ১৬ হাজার ৬৮৪ জন ও মৃত্যু ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত ও মৃত্যু কম: ২০২৫ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্ত ছিলেন ২১ হাজার ৩২৭ জন ও মৃত্যু হয়েছিল ৮৪ জন; চলতি বছরে একই সময়ে তা ১৬ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত ও ৫৬ জন মৃত্যু।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেছেন, এখনই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে আগস্ট-অক্টোবর পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে; আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, প্রচলিত মশা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কাজ করছে না এবং আগামী ২-৩ মাস ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষক ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, কর্মক্ষম ব্যক্তিরা জ্বর এলেও কাজের কারণে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দেরি করেন এবং অনেকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে যান; অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ২০২১ সালে ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৬৯ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৭৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে; ড. বাশার বলেছেন, ঢাকা থেকে যানবাহনে মশা ছড়িয়ে পড়ায় এখন দেশের জেলা ও উপজেলা শহরগুলোয় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়েছে।