২০১২ সালের ৭ এপ্রিল মুম্বাইয়ের লোকহান্ডওয়ালার একটি ফ্ল্যাটে অরুণ টিক্কু নিহত হন।
ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানালা দিয়ে সাহায্য চাওয়ার শব্দ শোনেন এবং একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে দেখার কথা জানান।
পুলিশ পরে ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে অরুণ টিক্কুর মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় কম্পিউটারের তার প্যাঁচানো ছিল।
নিহতের ফোনের সর্বশেষ কলটি ছেলে অনুজ টিক্কুর সঙ্গে হওয়ায় তদন্তের শুরুতে তাঁর অবস্থানও খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশ অনুজ টিক্কু ও তাঁর বন্ধু পরিচয় দেওয়া একজনকে গোয়ার পথে চিপলুন এলাকা থেকে আটক করে।
অনুজ টিক্কু বলেন, তিনি বন্ধুর সঙ্গে গোয়ায় যাচ্ছিলেন এবং মুম্বাইয়ের ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন না।
তদন্তে বন্ধু পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম বিজয় পালান্ডে বলে শনাক্ত হয়; অনুজ তাঁকে করণ সুদ নামে চিনতেন।
পুলিশের অভিযোগ ছিল, অনুজ টিক্কুর স্বাক্ষর নিয়ে তাঁর সম্পত্তির কাগজপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং তাঁকে গোয়ায় হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পুলিশ আরও অভিযোগ করে, অরুণ টিক্কু ভাড়াটিয়াদের কাগজপত্র পরীক্ষা শুরু করায় পরিকল্পনা বদলে তাঁকে একা অবস্থায় হত্যা করা হয়।
তদন্তের সময় পালান্ডের একটি ব্যাংক লকার থেকে অনুজ টিক্কুর নামে কথিত আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
অনুজ টিক্কুর দাবি, তাঁকে মাদক মেশানো বিয়ার পান করিয়ে জোর করে চিঠিটি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের তদন্ত শেষে অনুজ টিক্কুকে নির্দোষ ঘোষণা করে সরকারি সাক্ষী করা হয়।
বিজয় পালান্ডে অরুণ টিক্কু হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে; একই মামলায় ধনঞ্জয় শিন্ডে ও মনোজ গাজকোশও সাজা ভোগ করছেন।
অনুজ টিক্কু বলেন, তাঁর বাবার হত্যার পূর্ণ বিচার এখনও নিশ্চিত হয়নি।