৫ আগস্ট ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে অলি আহমদ দাবি করেন, তাঁর দলের ভেতরের লোকেরাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরে তাঁর পদচ্যুতির ষড়যন্ত্র চলছে এবং ষড়যন্ত্রকারীরা প্রধানমন্ত্রীর আশপাশেই রয়েছে।
দেশের তিন স্থানে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অলি আহমদ সেটিকে দলীয় ভেতরের বিরোধের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিভেদ সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান এবং দলের ভেতরের ‘দালালদের’ চিহ্নিত করার কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেননি; স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিদেশি প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্র এবং ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
বিএনপিকে প্রশ্ন করে তিনি ১৯৯১ সালে জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন এবং ২০০১ সালের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন।
অলি আহমদের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলেও পরে বিএনপি ওই সংগ্রামে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং ঢাকার সড়ক হকারদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সরকার নিজেদের দলের হকারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে কীভাবে সামলাবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সমতার ভিত্তিতে মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেন এলডিপি সভাপতি।