কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারের জালে হলুদ সোনালি বাটা নামে একটি সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে।
ট্রলারের মাঝি আসাদ বলেন, ৪ আগস্ট গভীর রাতে মাছ ধরার সময় মাছটি জালে ওঠে।
৫ আগস্ট মাছটি অন্য মাছের সঙ্গে আলীপুর মৎস্য বন্দরে আনা হয়, তবে সেখানে পৌঁছানোর সময় সকাল না দুপুর—এ নিয়ে বর্ণনায় অমিল রয়েছে।
মাছটির উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রং ও গঠনের কারণে বন্দর এলাকায় জেলে, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের কৌতূহল দেখা যায়।
আসাদ বলেন, মাছটির রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেকে তা দেখতে আসেন।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, তিনি আগে এমন রঙের মাছ কাছ থেকে দেখেননি; তাঁর ভাষ্য, মাছটি আকারে ছোট ছিল।
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান মাছটিকে হলুদ সোনালি বাটা বা ইয়েলো গোটফিশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Upeneus sulphureus বলেন।
বখতিয়ার রহমানের ভাষ্য, সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত এ মাছ থুতনির নিচের দুটি শুঁড় দিয়ে তলদেশের বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে।
তিনি বলেন, এই খাদ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া তলদেশের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ভূমিকা রাখে।
তাঁর ভাষ্য, মাছটি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে অর্থনৈতিক গুরুত্ব রাখে এবং প্রোটিনের উৎস।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া যায় এবং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ দরকার বলে অপু সাহা মন্তব্য করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল মিয়া এ ধরনের মাছ সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।