ইউরোপোলের অপারেশনাল টাস্কফোর্স গ্রিম বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কিশোরদের নিয়োগ করে সহিংস অপরাধে ব্যবহার করার একটি প্রবণতা মোকাবিলায় তারা কাজ করছে।

টাস্কফোর্সটির ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছে নির্দেশনা কখনও কম্পিউটার গেমের ধাঁচে উপস্থাপন করা হয়।

ইউরোপোলের ইউরোপীয় সিরিয়াস অ্যান্ড অর্গানাইজড ক্রাইম সেন্টারের প্রধান অ্যান্ডি ক্রাগ এ পদ্ধতিকে দুর্বল তরুণদের কাছে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড আউটসোর্স করা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওটিএফ গ্রিমে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি নরওয়ের ইয়োহানেস নাটল্যান্ডকে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

তদন্তের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আগে নাটল্যান্ড যুক্তরাজ্যে যান এবং হাডার্সফিল্ড এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাকে লক্ষ্যব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তকারীরা এখনো খতিয়ে দেখছেন, পরিকল্পিত ঘটনাটি অপরাধমূলক হত্যা ছিল নাকি ইরানের হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলা।

সুইডিশ পুলিশ অভিযোগ করেছে, ফক্সট্রট নেতা রাওয়া মাজিদের ঘনিষ্ঠ আলি শেহাদ আহমেদ ‘এজেন্ট ৪৭’ ছদ্মনামে নাটল্যান্ডের বিমানযাত্রা, পাসপোর্টের ব্যবস্থা ও যোগাযোগে ভূমিকা রেখেছিলেন।

আহমেদকে ইরাকের সুলাইমানিয়ায় আটক করা হয়েছে এবং তাকে সুইডেনে প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক ও মাজিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পুলিশের ধারণা, ফক্সট্রটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সহিংসতা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে; অন্য কিছু ঘটনা মাদক ব্যবসাকেন্দ্রিক এলাকা নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

সুইডিশ জাতীয় পুলিশের উপকমিশনার স্টেফান হেক্টর বলেছেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করা হচ্ছে।

টাস্কফোর্স গঠনের পর ১৫ মাসে ২৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।